বাজেট নিয়ে ই-ক্যাব’র মিশ্র প্রতিক্রিয়া

৭ জুন, ২০২৪ ১৪:৩৭  

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্ট বাংলাদেশ সঙ্কল্প প্রাধান্য পেয়েছে বলে মনে করছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ইক্যাব। শুক্রবার বাজেট নিয়ে সংগঠনের পক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শেয়ার করেছেন সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক আসিফ আহনাফ।

বাজেট মূল্যায়ণের শুরুতেই আইটি ও সফটওয়্যার খাতকে ৩ বছরের জন্য কর অব্যাহতির সময় বৃদ্ধিকে সাধুবাদ জানিয়ে ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার বলেছেন, বাজেটে ই-ক্যাব প্রস্তাবিত ই-লার্নিং ও ই অ্যাপ্লিকেশন এর উপর এই কর অব্যাহতি রাখায় এই খাতের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তবে পুরো ডিজটাল ইন্ড্রাস্ট্রির ব্যাকবোন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওয়েবসাইট হোস্টিং ও ক্লাউড সার্ভিস কেও কর অব্যাহতির আওয়াত নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।

অপরদিকে আসিফ আহনাফ জানিয়েছেন, ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান সমূহের কার্যক্রমে সচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাকল্পে বিজনেস আইডেন্টিটি প্ল্যাটফর্ম (DBID) ইক্যাবের জোরালো প্রস্তাবনা ছিল। ইতোমধ্যে এটি চালু হলেও ডিজিটাল কমার্স সেক্টরের পৃথক কোন কর্তৃপক্ষ না থাকায় DBID গ্রহনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহকে এখনো ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে। এছাড়াও DBID এর কার্যকারিতাও এখনো স্পষ্ট হয়নি।

এছাড়াও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় ইক্যাব এর প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল কম্পলায়েন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর পাইলটিং পরবর্তী ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি প্রয়োজন বলে মনে করেন ই-ক্যাব অর্থ সম্পাদক।

তার ভাষায়, ই-কমার্স এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্মার্ট লজিস্টিক্স। এ বিষয়ে সরকারের "জাতীয় লজিস্টিক নীতি" প্রনয়নে ই-ক্যাব সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। তবে এই নীতিমালার বাস্তবায়নে স্মার্ট লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানসমূহ কে ন্যূনতম পাঁচ বছর কর অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন এবং গ্রামীণ পর্যায়ে ও ক্রস বর্ডার ই-কমার্স সম্প্রসারণে "স্মার্ট পোস্ট অফিস" এর পাশাপাশি স্মার্ট লজিস্টিক্স প্রতিষ্ঠানসমূহ কে ডাক মাশুল থেকেও অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন। সর্বোপরি প্রস্তাবিত বাজেটে লজিস্টিক খাতকে অগ্রাধিকার খাত ঘোষনা করায় স্মার্ট লজিস্টিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এর ওয়্যারহাউজ ও ট্রাস্পোর্টেশন এর উপর প্রযোজ্য ভ্যাট মওকুফ করার আহবান জানাচ্ছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যাশলেস পেমেন্টকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করা হলেও ‘পেমেন্ট গ্রহণে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসমূহকে পেমেন্ট চার্জ প্রদান করতে হয়’ উল্লেখ করে প্রস্তাবিত বাজেট পাশ হওয়ার সময় ডিজিটাল পেমেন্ট কে উৎসাহিত করতে এই সেক্টরে পেমেন্ট চার্জ সমমানের ন্যূনতম দুই শতাংশ ক্যাশ ইন্সেটিভ প্রদান করার দাবি জানিয়েছে ই-ক্যাব। একইসঙ্গে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে ক্যাশলেস পদক্ষেপ এর উপর বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আসিফ বলেছেন, ই-কমার্স দেশের সবথেকে ক্রমবর্ধমান সেক্টর, এই সেক্টরে গত ৫ বছরে প্রায় ২ লক্ষ নারী ও তরুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে এবং ৫ লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, তাই এই সেক্টরের বিকাশে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের কর অব্যাহতি দেওয়াও দাবি জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে এবং স্মার্ট অর্থনীতির সংকল্পে ই-কমার্স সেক্টরকে আরো অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং ই-ক্যাব এর প্রস্তাবিত দাবি সমূহ সরকার বিশেষ বিবেচনায় নিতে পারে।